Posts

ওলোটপালোট

ওলোটপালোট ..............কাব্য বহুকাল কবিতা লিখতে পারছি না, যা লিখছি তা শুধু পাগলের প্রলাপ অজস্র চেষ্টা! হয়তো আমি পাল্টে চলেছি নিজের ভিতর কোনো শেওলা মানব, যে শুধু সবুজ খুঁজছে! কিংবা কোনো সূর্যাস্ত সভ্যতার ইতিহাস লিখতে চাইছে, নিজের ভিতর ক্রমশ ফুরোনো আলোতে! রৌদ্রে পোড়া সময়ে পুড়ে চলেছে শ্রমিকের হাত, সময়ের ছোট মনে এখন গ্লোবালাইজেশন! ধর্মের আগুন এখন শুধু রাজনৈতিক রাবন, যে শুধু জটায়ুকে বোধ করে চলেছে! নারী হত্যা ,ভ্রন হত্যা ,বিপ্লবের মৃত্যু শুধু সাক্ষী রেখে গেছে সেই ধর্ষিত আদিবাসী সভ্যতার বুকে! আমার শব্দরা আজকাল শুয়ে আছে মৃত্যু বুকে নিয়ে চিতার আগুনে আজকাল আমার বারুদের গন্ধ! কিছু পাল্টাচ্ছে না কিছুর বদল নেই , শুধু সময়ের কামানে এখন ঘুম পাড়ানির গান, মানুষকে ঘুম পড়ানোর মন্ত্র! আমি চাই কোনো এক সকালের ঈশ্বরের কুঠারে, ফিরে আসুক সেই আদিম সভ্যতা! আমার গায়ের শেওলাগুলো উঠে গিয়ে শব্দ চাপা হোক, সময়ের ছাপাখানায় তখন সব ওলোটপালোট ,শুধু আলোর দিন! আর সকালে সূর্যের হাসিতে হেসে উঠুক সেই বেওয়ারিশ ছেলেটা যার মৃত্যু বুকে!!

ছায়া যুদ্ধ

ছায়া যুদ্ধ ...........কাব্য অন্তর্বর্তী কোনো ছায়া যুদ্ধ কেন জানি আজকাল যুদ্ধ শব্দটা খুব সহজে সময়ের পাতায়! ফোঁটা ফোঁটা রক্ত ,এদিকে ওদিকে ছড়ানো বডি, অসংখ্য হাড়গোড় বেড়োনো সমাজ! রিমেকের হিড়িক, আমাদের আর নতুন কিছু কি করার নেই ? কিছুটা এগিয়ে গেলে সুদিনদার চায়ের দোকান, জানতে ইচ্ছে করে চায়ের দোকানের মালিকের নাম  সুদিন কেন ? নরেন্দ্র হতেই পারে! একদল কুকুর  সময়ের রাস্তায় সহবাস করছে ,ঝগড়াও, আচ্ছা মেয়ে কুকুরগুলো এমন সস্তা কেন ? সকলের সাথেই চলে যাচ্ছে! হাজারো রাস্তা ,হাজারো তার নাম ,তার দিশা, প্রতিটা রাস্তার শেষে বিভ্রান্তিকর অদ্ভুত রঙিন মলাট! বিষয়বস্তুর নাম কি আশ্চর্য একটা  যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা চলছে অথচ সবাই আড়ালে! অন্তর্বর্তী কোনো ছায়া যুদ্ধ আমার শব্দরা ক্রমশ দুর্বোধ্য কোনো সময়ের কফিন! কারণ আমি জানি কলমই যুদ্ধের শেষ অস্ত্র , মৃত্যুর আগে মানুষের লড়াইগুলো যে টুঁটি চেপে ধরছে সময়! এই যুদ্ধের অস্থিরতায় বেড়ে যাচ্ছে, মানুষের ভাতের কান্না আর ভালোবাসার রোগ!!

পাতা ঝরা

পাতা ঝরা ........কাব্য অতিপরিচিত রোদে পুড়ে চলা সবুজের টান প্রিয়, এক ঝাঁক পাতা! খয়েরী আভা বাড়িয়ে তুলছে পিছুটান শহরের অলিগলি হাঁপিয়ে ওঠা সম্বল! নিজেকে ভোলাতে হেঁটে চলা অজস্র অযুতনিযুত অজুহাত পরিচিতরা বলে শুভকামনা! হাসিতে লেগে আছে নাগরিক অধিবেশন, একটা বিশাল শবযাত্রা, সৎকারের উদ্দেশ্যে এগিয়ে চলে অজান্তে! শহরের অলিগলি পেরিয়ে খোলা নর্দমা ,ময়লা খুপচি বাড়ি ,হারানো উঠোন ,লুকোনো হাসি, চাপা পড়েছে  ক্রমশ অগরু  আর ধূপকাঠিতে! কিছুক্ষনের মধ্যে অন্ধকার ঢেকে যায় চেনা শহরে, চেনা পথে অজস্র অচেনার মাঝে আমি নির্বাসিত! কানের গভীরে কে যেন হেসে বলে, একদম মনখারাপ না ,একদম একলা না! আমিও হেসে উঠি অজান্তে, দূর থেকে শুনতে পাই মৃত্যু পথযাত্রীদের শব্দ শুকনো পাতাঝরার! অতিপরিচিত রোদ,বোধহয় নিম্নচাপ, কিছুক্ষণের মধ্যে অন্ধকার আমার শহরের বুকে! আমার মতো কেউ দেখতে আমার দিকে এগিয়ে আসে মুখে তার অনেকদিনের লুকোনো বৃষ্টি! সবাই বলছে সময়ের রোগ আর আমি স্কচে'র সঙ্গে বরফের বদলে গিলতে থাকি আফসোস, এক আকাশ আফসোস প্রিয়!!
তোমার শব্দগুলো জুড়ে একটা কবিতা লিখতে চাই প্রিয়, আর তো কিছু পারি না আমি! অন্ধকার পর্দার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে অজস্র কালচিত্র, আবিষ্কার শুধুই আর্দ্রতা সূত্র! আর  তো কিছুই পারি না ভালো চাওয়া  ছিনিয়ে এনে চোখে তুলে ধরা, কাস্তে ,হাতুড়ি ,তারা শ্রমিকের মানদণ্ড! গোপন ইশারা, তোমার বুকের লুকোনো তিলে আশ্চর্য তারিখ, না ভালোবাসি বলতে পারি না প্রিয়, তোমার মস্তিস্ক নিউরনে স্নায়ু যুদ্ধের ছন্দপতন, আয়নায়  লাগানো ঠোঁট! বারংবার বম্বিং , আকাশ থেকে নেমে আসা অসংখ্য আশীর্বাদ, সময়ের নীতিতে ঝিমিয়ে  পড়া ভ্রূণ মৃত্যু, সময় এগোচ্ছে প্রিয়! তোমার অবয়ব জুড়ে শুধু এতটুকু ভালো চাওয়া, আর তো কিছু পারি না  আমি! সময়ের কালো পর্দার ওপারে সবটাই আগন্তুক, আবিষ্কার শুধু নতুন সময় প্রিয়!! ..............কাব্য

ম্যানিকুইন

ম্যানিকুইন .........কাব্য সত্যি বলতে কি ইসু আমরা কেউ ভালো নেই, দেওয়ালে আটকানো ক্যালেন্ডার, ঠিক যেমন হাওয়ায় উড়ছে ,ঠিক তেমনি! ঠিক যেন আকাশে শকুন আর মাটিতে ছোট্ট জীবন তার মধ্যে আমরা  ভালো থাকার কারণ খুঁজছি!  আগে পরে কিছু নেই বারংবার বিব্রত হয়ে ঈশ্বরের চোখের দিকে তাকাচ্ছি আমরা! আর মৃত ঈশ্বর একইরকম হেসে চলেছেন , সেই হাসিতে কোনো স্বাদ নেই ,কেমন একটা বিস্বাদ! এরই মাঝে আমরা এগিয়ে চলেছি, মৃত মিছিলে। আমাদের হাতে মোমবাতিতে লেখা শিশু ধর্ষণ ,কর্মহীনতা মানুষের হাজারো পাপ! শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে আমরা পিঠ চাপড়াচ্ছি নিজেদের, কিন্তু  হিসেবের খাতায় ক্রমশ আমরা ফুরিয়ে চলা একটা সভ্যতা! আমরা হাসছি, ঠিক যেন গ্লোবালাইজেশনের কোনো মলে, সাজানো ম্যানিকুইন! সত্যি বলছি ইসু, আজকাল লিখতে বসলে ,লেখার পাতায় রক্ত বৃষ্টি হয়, মানুষের সভ্যতার! আমরা কি তবে নিজেদের ভিতর ক্রমশ কুন্ডলী পাকাচ্ছি, হয়ে উঠছি  সব বিষাক্ত অজগর!!

অবাক পৃথিবী

অবাক পৃথিবী .............কাব্য লুকোনো স্বপ্নগুলো তাড়া করে আমি তোমার  গভীর  উঠোনে গিয়ে উঠি প্রিয়! তোমার  আঁচল টেনে ধরে নিজেকে ঢাকতে চেষ্টা করি অজস্র চোরাবালি আমার চারিপাশে! অবাক চোখে পৃথিবী দেখি চিনতে পারি না সময় ,চেনবার চেষ্টা করি নিজেকে তোমার আয়নায় প্রিয়! বারংবার নিজের কবিতায় তুমি কখনো হয়তো নবারুণের ধারালো সূর্য আমি ছুঁতে চাই বামনের মতো! আবার নিজের  আয়নায় তাকিয়ে দেখি নিতান্ত সাধারণ এক পুড়ে চলা মানুষ  বাস্তবতায়! দগ্ধ আধ পোড়া সিগারেটের আগায়  তামাটে পৃথিবী, স্বপ্ন ফেরি করে আমি সময় কিনি, কিনি কষ্ট ,গলার কাছে আটকে থাকে না বলাগুলো!  হঠাৎ কখন দক্ষিণের জানলা দিয়ে, একফালি মিষ্টি হাওয়া কানে কানে বলে, কই রে ,কখন থেকে খুঁজছি তোকে ,কেমন আছিস;  আমি ফেটে পড়ি হাসিতে জীবনের কথায় , সবটাই সামাজিক! লুকোনো স্বপ্নগুলো তাড়া করে আমি তোমার উঠোনে গিয়ে উঠি প্রিয় প্রতিদিন! স্বর্গের দুয়ারে দাঁড়িয়ে তোমার অপেক্ষায়, অবাক চোখে সাক্ষী হয়ে থাকি পৃথিবীর মিথ্যে বাঁচায়! আর তারপর কখন যেন রাত্রি হয় প্রিয়, আমাকেও ফিরে যেতে হয় প্রিয়,তোমাকে ছেড়ে সাজানো রাস্তায়!!

মনের আয়না

মনের আয়না ............কাব্য আয়নার সামনে তুমি থেকো না কি দেখবে ওখানে ? তোমার রূপ! সে তো চিরদিনের নয় মরছে পড়বে, কুঁচকে যাবে , বদলে যাবে সময়ের সাথে! বারে বারে বলি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে থেকো না কোনও লাভ নেই! যদি দেখতে হয় দেখো হৃদয় জানলার বাইরে! খোঁজো নিজেকে সেখানে, খোঁজো তোমার অন্তরের রূপ! যদি দাঁড়াতেই হয়, দাঁড়াও নিঝঞ্ঝাট সময়ের বাইরে! মাপবে কতোটা পবিত্র তুমি ওটাই তো তোমার আসল রূপ! বারে বারে বলি মনের  জানলা বন্ধ রেখো না! তাহলে হারিয়ে যাবে তোমাকে খুঁজবে না কেউ , আয়নার সামনে তুমি থেকো না!