Posts

বিষাক্ত মানুষ

বিষাক্ত মানুষ .............কাব্য আমায় ভালোবাসতে এসো না কখনো নারী, নিঃশ্বাসে লেগে কয়েকশো বছরের বিষ! বুকের আগুনের অছিলায় যদি শরীর ভোগ করতে চাও লাভ নেই , বহুদিন ঢাকা পরে আছি মৃত  লতাগুল্মে যুগের অভিজ্ঞতায়! আমার আস্তিনের রক্তে ভালোবাসা গাংচিল, আমি তো উপস্থিতি মাত্র! আমায় ভালোবাসতে এসো না কখনো নারী, নিঃশ্বাসের ফাঁকে কখন যেন জলফড়িং সবুজ পাতার ডগায় ডগায়! আমি ঈশ্বর নই, তাই বোধহয় সাধ হয় মাঝে মাঝে জড়িয়ে ধরি নারী সাগর! ডুব দি তোমার নরম শরীরে সে তো মুহূর্ত মাত্র! আমি রক্ত করবীর নায়ক সাজি যদি, তুমি কি নন্দিনী হতে পারবে ? তাই দরজা বন্ধ করো ,জানলা বন্ধ করো, আমাকে ভরসা করো না প্রিয়! যে সময়ের জেহাদ লেগে আছে আমার বুকের জঙ্গলে সেখানে হারাতে চেও না , দাবানলে পুড়ে যেতে পারো! আমায় ভালোবাসতে এসো না কখনো নারী, শুধু বিশ্বাস করতে পারো মানুষ হিসেবে! কিন্তু কখনো ভুল করে, সোহাগের আদর দেখিয়ো না, আমার নাকে রজনীগন্ধা বিষ! বহুযুগ উপোষী বাঘের মতো এই মৃত সময়ে আমি মুসাফির, আমার নখে লেগে ভালোবাসার রক্ত, তাই আমাকে জড়িয়ে ধরো না প্রিয়!!

কাকে খোঁজে মন

কাকে খোঁজে মন ................কাব্য বাসে ট্রামে দিনে রাতে কাকে খুঁজি! সকালের ঘুম ভাঙা আদুরে স্পর্শে, কাকে খুঁজি! কাকে খুঁজি আমি বিকেলের ময়দানে, আবছা অন্ধকারে! একবার বলও  তুমি জানো না শুধু একবার তুমি আমার চোখের স্বপ্নে চান করো! কথা দিলাম তোমায় দেখবো না নগ্ন আমি, তোমাকে জড়াবো না আমি লতার মত! শুধু দেখবে তোমাকে আমার চোখে, তাপরও বলতে পারবে তুমি জানো না ? কার সম্বলে এ জীবন বাঁচে, কাকে খোঁজে মন দিনে রাতে! এখনও যদি না বোঝো, তবে বলবো না কোনদিন কাকে খোঁজে মন আর কাকে ভালোবাসে!

সময় কাঁদছে

সময় কাঁদছে ............কাব্য বিবর্ণ গোধূলির আলোয় এক মায়ার সিঁড়ি নেমে আসে আকাশ থেকে! সময় বলছে ভালো নেই সে মানুষ কাঁদছে আর কাঁদছে! রঙ চটা আকাশের গায়ে নীল প্লাসটার, তার এখানে ওখানে বেড়িয়ে আসা সাদা রঙ, যেন মৃত্যুর কফিন! সময় কাঁদছে ,শুনতে পাও তোমরা, সময় কাঁদছে শ্মশানের গায়ে চোখ জ্বালা ভাব, চোখের জল পড়ছে! ঝরে পড়ছে যেন না চাওয়া বৃষ্টি ফসল পচবে ,পচবে মানুষ আর মানুষের মন! ধুর সে তো কবেই পচে গেছে আর কি পচবে নতুন করে! শুধু এখন ভালো নেই সময় শুধু কাটছে,কেটে চলেছে আলোর থেকে অন্ধকারে! দেখো রাত্রি আসছে, সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে, নিস্তব্ধ, শান্ত মৃত শরীর, এবার পুড়বে একটু পরে; শুধু সময় কাঁদছে!

খেয়ালি জীবন

খেয়ালি জীবন ..............কাব্য জীবনের সব অশনি সংকেত মাড়িয়ে, এক ক্ষুদ্র হৃদয়ের আশায় হাত গুণী, স্বপ্নিল ভালোবাসার আশায়! বারে বারে ভুলি তৃপ্তি মাখানো নেই, লোভ লালসায়! বারে বারে করি একি ভুল লোক লজ্জায়! সৃষ্টি নিয়মের বাইরে এক গোলক, যার আপাদমস্তক মোড়া মিথ্যা শয্যায়! রাম , শ্যাম ,যদু ,মধু সবাই ছিল আর থাকবে সম্পর্কে! করতাল বাজাবে সবাই পরে গেলে, কাঁদবে কেউ কেউ মরে গেলে , কিন্তু হাসাবে না কষ্ট হলে! একটা জীবন বাঁচো তাই ফিরবে না সে চলে গেলে! সব জানি সব বুঝি তবু ভুলের পাহাড়, পাহাড়ের উপর মাটির তৈরী দেয়াল! বড্ড নরম যে হৃদয়ের মাটি জীবন এ হাসা কাঁদা তোর খেয়াল!

আমি আর কবিতার তুমি

আমি আর কবিতার তুমি ....................কাব্য+ঋষি আজও ফুটপাথে  কবিতার পাণ্ডুলিপি প্রিয়, আজও প্রেম ঝরে চোখের পাতায় জানো! আমার তোমার সাত সমুদ্র লিপি প্রিয়, ঠিক ছুঁয়ে যায় দখিন হাওয়া যেন! নিত্য নতুন এক অন্তর দাহ হৃদয়ের, নিত্য এক অনিবার্য কল্পনা! সব ছুঁয়ে দিয়ে চোখের নোনা জল প্রিয়, বৃষ্টি আর প্রেমের জল্পনা! প্রিয় তুমি কখনো কাঁদতে থাকো হৃদয়ে, কখনো তুমি হাসির কদম ফুল! প্রিয় তোমার স্পর্শে কখনো হৃদয় ভাঙে, কখনো তুমি প্রেমের প্রথম ফুল! তুমি কখনও মেঘলা ঝোড়ো বাতাস, কখনো তুমি মৃত্যুর হাতছানি! চারিদিক সব হয়ে যায় খালি ফ্যাকাসে, শুধু বেঁচে থাকে নীরবতার বাণী! কখনও তুমি সুনীলের প্রেমের নারী প্রিয়, কখনো বা শক্তির আবাহন! তরুণ কবি শ্রীজাত প্রেমে ভাসে তুমি আদি চণ্ডীর চরণ! কলেজ গেটে ,অফিস পাড়ায় যেখানেই চায় সেখানে তুমি থাকো প্রিয়, কবিতা আমি তোমার প্রেমে পাগল, আমায় তুমি এমনি জড়িয়ে রাখো! আজও জীবনে তোমার স্পর্শ আছে, আজও হৃদয়ে বাঊলে সুর আসে! কবিতার তুমি ছড়িয়ে ছিটিয়ে জীবনে, বাঁচার ইচছা আমার জাগিয়ে রাখে!

ওলোটপালোট

ওলোটপালোট ..............কাব্য বহুকাল কবিতা লিখতে পারছি না, যা লিখছি তা শুধু পাগলের প্রলাপ অজস্র চেষ্টা! হয়তো আমি পাল্টে চলেছি নিজের ভিতর কোনো শেওলা মানব, যে শুধু সবুজ খুঁজছে! কিংবা কোনো সূর্যাস্ত সভ্যতার ইতিহাস লিখতে চাইছে, নিজের ভিতর ক্রমশ ফুরোনো আলোতে! রৌদ্রে পোড়া সময়ে পুড়ে চলেছে শ্রমিকের হাত, সময়ের ছোট মনে এখন গ্লোবালাইজেশন! ধর্মের আগুন এখন শুধু রাজনৈতিক রাবন, যে শুধু জটায়ুকে বোধ করে চলেছে! নারী হত্যা ,ভ্রন হত্যা ,বিপ্লবের মৃত্যু শুধু সাক্ষী রেখে গেছে সেই ধর্ষিত আদিবাসী সভ্যতার বুকে! আমার শব্দরা আজকাল শুয়ে আছে মৃত্যু বুকে নিয়ে চিতার আগুনে আজকাল আমার বারুদের গন্ধ! কিছু পাল্টাচ্ছে না কিছুর বদল নেই , শুধু সময়ের কামানে এখন ঘুম পাড়ানির গান, মানুষকে ঘুম পড়ানোর মন্ত্র! আমি চাই কোনো এক সকালের ঈশ্বরের কুঠারে, ফিরে আসুক সেই আদিম সভ্যতা! আমার গায়ের শেওলাগুলো উঠে গিয়ে শব্দ চাপা হোক, সময়ের ছাপাখানায় তখন সব ওলোটপালোট ,শুধু আলোর দিন! আর সকালে সূর্যের হাসিতে হেসে উঠুক সেই বেওয়ারিশ ছেলেটা যার মৃত্যু বুকে!!

ছায়া যুদ্ধ

ছায়া যুদ্ধ ...........কাব্য অন্তর্বর্তী কোনো ছায়া যুদ্ধ কেন জানি আজকাল যুদ্ধ শব্দটা খুব সহজে সময়ের পাতায়! ফোঁটা ফোঁটা রক্ত ,এদিকে ওদিকে ছড়ানো বডি, অসংখ্য হাড়গোড় বেড়োনো সমাজ! রিমেকের হিড়িক, আমাদের আর নতুন কিছু কি করার নেই ? কিছুটা এগিয়ে গেলে সুদিনদার চায়ের দোকান, জানতে ইচ্ছে করে চায়ের দোকানের মালিকের নাম  সুদিন কেন ? নরেন্দ্র হতেই পারে! একদল কুকুর  সময়ের রাস্তায় সহবাস করছে ,ঝগড়াও, আচ্ছা মেয়ে কুকুরগুলো এমন সস্তা কেন ? সকলের সাথেই চলে যাচ্ছে! হাজারো রাস্তা ,হাজারো তার নাম ,তার দিশা, প্রতিটা রাস্তার শেষে বিভ্রান্তিকর অদ্ভুত রঙিন মলাট! বিষয়বস্তুর নাম কি আশ্চর্য একটা  যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা চলছে অথচ সবাই আড়ালে! অন্তর্বর্তী কোনো ছায়া যুদ্ধ আমার শব্দরা ক্রমশ দুর্বোধ্য কোনো সময়ের কফিন! কারণ আমি জানি কলমই যুদ্ধের শেষ অস্ত্র , মৃত্যুর আগে মানুষের লড়াইগুলো যে টুঁটি চেপে ধরছে সময়! এই যুদ্ধের অস্থিরতায় বেড়ে যাচ্ছে, মানুষের ভাতের কান্না আর ভালোবাসার রোগ!!