Posts

-তাজমহল

-তাজমহল অ'প্রিয়- কাব্য... ভালো লাগছে না- আস্তে আস্তে তলিয়ে যাচ্ছি জলের তলায়, চোখের তলায়! কোনো গভীর খননে বুকের পাঁজরে অদ্ভুত নাকাবন্দী, সারা শহর বন্ধ আজ; সারা সময় স্থির হয়ে থেকে গেছে- তোমার মুখের হাসিতে! আমি রৌদ্র কুঁড়িয়েছি চিরকাল, কুঁড়িয়েছি স্মৃতি, পাতায় পাতায় লেগে থাকা অজস্র কালো দাগ! কখনো সময়ের মতো নিজেকে ভাবিনি- কখনো সময়ের শরীরে নিজেকে সাজায় নি বাদশাহ জাহাঙ্গীরের মতো! শুধু দাগ টেনেছি মাটিতে , শুধু গড়েছি তাজমহল হাজারো কবিতার পাতায়! ইদানিং তোমায় দেখলে হিংসে হয় জীবন , ইদানিং তোমায় ভাবলে পরে দমবন্ধ হয়ে আসে সময়ের স্রোতে , চারপাশ হঠাৎ শুনশান !! নিজের বুকের ভিতর নিজের মৃতদেহের শেষ কৃত করি! হঠাৎ মনে মনে বলি- কৃত কালিমা...... জানো তো আমারও আজকাল ফিরে আসতে ইচ্ছে হয় , জানো তো আমারও আজকাল ভালোবাসতে ইচ্ছে হয়!!! বুকের পাথরের কঙ্কালে পেরেক ঠুঁকে বলতে ইচ্ছে হয়- ভালো আছি .... খুব ভালো! ঠিক তখনি সারা শহর থেমে যায় - সমস্ত সভ্যতার গতিতে লেগে যায় চাকা জ্যাম , আমি দেখি সময়ের জানলায় মুখ বাড়িয়ে তোমার মুখ! তুমি হাসছো, আমি ছুঁতে চাই তোমার দিকে হাত বাড়াই! আর বিশ্বাস করো সেই মুহূর্তে আমি বদলাই, পাথর ভ...

বহুদিন মৃত

বহুদিন মৃত ...........কাব্য একে অন্যের ভিতর ঢুকিনি বহুদিন, সে পথ ধরে হাঁটা হয় না জানো.! আমি বহ্নিশিখার চঞ্চল ঢেউ, ভালোবেসে আমি পুড়িনি বহুদিন! একে অপরকে দেখি নি বহুদিন মুগ্ধ হয় নি গভীর প্রেমে! আমি তো ছড়ানো গোলাপ পাতা, ভালোবাসা কেউ মাখে নি বহুদিন!. আমি এক লেখা শেষের কবিতা, আমাকে কেউ পড়ে নি বহুদিন! আমি এক সেই নক্সী কাঁথা- ভালোবেসে কেউ বোনে নি বহুদিন!! পৃথিবীর আলো আমি মাখিনি বহুদিন, আমি মুগ্ধ এক একলা গোধুলি!. সরে যাওয়া সেই সূর্য প্রেমে- মন খুলে আমি হাসি নি বহুদিন!! একে অন্যের ভিতর ঢুকিনি বহুদিন, পুড়িনি আমরা আমাদের আগুনে! আমার পোড়ানো সাজানো স্বপ্ন, নতুন স্বপ্ন আমি বুনি নি বহুদিন.!!

বিষাক্ত মানুষ

বিষাক্ত মানুষ .............কাব্য আমায় ভালোবাসতে এসো না কখনো নারী, নিঃশ্বাসে লেগে কয়েকশো বছরের বিষ! বুকের আগুনের অছিলায় যদি শরীর ভোগ করতে চাও লাভ নেই , বহুদিন ঢাকা পরে আছি মৃত  লতাগুল্মে যুগের অভিজ্ঞতায়! আমার আস্তিনের রক্তে ভালোবাসা গাংচিল, আমি তো উপস্থিতি মাত্র! আমায় ভালোবাসতে এসো না কখনো নারী, নিঃশ্বাসের ফাঁকে কখন যেন জলফড়িং সবুজ পাতার ডগায় ডগায়! আমি ঈশ্বর নই, তাই বোধহয় সাধ হয় মাঝে মাঝে জড়িয়ে ধরি নারী সাগর! ডুব দি তোমার নরম শরীরে সে তো মুহূর্ত মাত্র! আমি রক্ত করবীর নায়ক সাজি যদি, তুমি কি নন্দিনী হতে পারবে ? তাই দরজা বন্ধ করো ,জানলা বন্ধ করো, আমাকে ভরসা করো না প্রিয়! যে সময়ের জেহাদ লেগে আছে আমার বুকের জঙ্গলে সেখানে হারাতে চেও না , দাবানলে পুড়ে যেতে পারো! আমায় ভালোবাসতে এসো না কখনো নারী, শুধু বিশ্বাস করতে পারো মানুষ হিসেবে! কিন্তু কখনো ভুল করে, সোহাগের আদর দেখিয়ো না, আমার নাকে রজনীগন্ধা বিষ! বহুযুগ উপোষী বাঘের মতো এই মৃত সময়ে আমি মুসাফির, আমার নখে লেগে ভালোবাসার রক্ত, তাই আমাকে জড়িয়ে ধরো না প্রিয়!!

কাকে খোঁজে মন

কাকে খোঁজে মন ................কাব্য বাসে ট্রামে দিনে রাতে কাকে খুঁজি! সকালের ঘুম ভাঙা আদুরে স্পর্শে, কাকে খুঁজি! কাকে খুঁজি আমি বিকেলের ময়দানে, আবছা অন্ধকারে! একবার বলও  তুমি জানো না শুধু একবার তুমি আমার চোখের স্বপ্নে চান করো! কথা দিলাম তোমায় দেখবো না নগ্ন আমি, তোমাকে জড়াবো না আমি লতার মত! শুধু দেখবে তোমাকে আমার চোখে, তাপরও বলতে পারবে তুমি জানো না ? কার সম্বলে এ জীবন বাঁচে, কাকে খোঁজে মন দিনে রাতে! এখনও যদি না বোঝো, তবে বলবো না কোনদিন কাকে খোঁজে মন আর কাকে ভালোবাসে!

সময় কাঁদছে

সময় কাঁদছে ............কাব্য বিবর্ণ গোধূলির আলোয় এক মায়ার সিঁড়ি নেমে আসে আকাশ থেকে! সময় বলছে ভালো নেই সে মানুষ কাঁদছে আর কাঁদছে! রঙ চটা আকাশের গায়ে নীল প্লাসটার, তার এখানে ওখানে বেড়িয়ে আসা সাদা রঙ, যেন মৃত্যুর কফিন! সময় কাঁদছে ,শুনতে পাও তোমরা, সময় কাঁদছে শ্মশানের গায়ে চোখ জ্বালা ভাব, চোখের জল পড়ছে! ঝরে পড়ছে যেন না চাওয়া বৃষ্টি ফসল পচবে ,পচবে মানুষ আর মানুষের মন! ধুর সে তো কবেই পচে গেছে আর কি পচবে নতুন করে! শুধু এখন ভালো নেই সময় শুধু কাটছে,কেটে চলেছে আলোর থেকে অন্ধকারে! দেখো রাত্রি আসছে, সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে, নিস্তব্ধ, শান্ত মৃত শরীর, এবার পুড়বে একটু পরে; শুধু সময় কাঁদছে!

খেয়ালি জীবন

খেয়ালি জীবন ..............কাব্য জীবনের সব অশনি সংকেত মাড়িয়ে, এক ক্ষুদ্র হৃদয়ের আশায় হাত গুণী, স্বপ্নিল ভালোবাসার আশায়! বারে বারে ভুলি তৃপ্তি মাখানো নেই, লোভ লালসায়! বারে বারে করি একি ভুল লোক লজ্জায়! সৃষ্টি নিয়মের বাইরে এক গোলক, যার আপাদমস্তক মোড়া মিথ্যা শয্যায়! রাম , শ্যাম ,যদু ,মধু সবাই ছিল আর থাকবে সম্পর্কে! করতাল বাজাবে সবাই পরে গেলে, কাঁদবে কেউ কেউ মরে গেলে , কিন্তু হাসাবে না কষ্ট হলে! একটা জীবন বাঁচো তাই ফিরবে না সে চলে গেলে! সব জানি সব বুঝি তবু ভুলের পাহাড়, পাহাড়ের উপর মাটির তৈরী দেয়াল! বড্ড নরম যে হৃদয়ের মাটি জীবন এ হাসা কাঁদা তোর খেয়াল!

আমি আর কবিতার তুমি

আমি আর কবিতার তুমি ....................কাব্য+ঋষি আজও ফুটপাথে  কবিতার পাণ্ডুলিপি প্রিয়, আজও প্রেম ঝরে চোখের পাতায় জানো! আমার তোমার সাত সমুদ্র লিপি প্রিয়, ঠিক ছুঁয়ে যায় দখিন হাওয়া যেন! নিত্য নতুন এক অন্তর দাহ হৃদয়ের, নিত্য এক অনিবার্য কল্পনা! সব ছুঁয়ে দিয়ে চোখের নোনা জল প্রিয়, বৃষ্টি আর প্রেমের জল্পনা! প্রিয় তুমি কখনো কাঁদতে থাকো হৃদয়ে, কখনো তুমি হাসির কদম ফুল! প্রিয় তোমার স্পর্শে কখনো হৃদয় ভাঙে, কখনো তুমি প্রেমের প্রথম ফুল! তুমি কখনও মেঘলা ঝোড়ো বাতাস, কখনো তুমি মৃত্যুর হাতছানি! চারিদিক সব হয়ে যায় খালি ফ্যাকাসে, শুধু বেঁচে থাকে নীরবতার বাণী! কখনও তুমি সুনীলের প্রেমের নারী প্রিয়, কখনো বা শক্তির আবাহন! তরুণ কবি শ্রীজাত প্রেমে ভাসে তুমি আদি চণ্ডীর চরণ! কলেজ গেটে ,অফিস পাড়ায় যেখানেই চায় সেখানে তুমি থাকো প্রিয়, কবিতা আমি তোমার প্রেমে পাগল, আমায় তুমি এমনি জড়িয়ে রাখো! আজও জীবনে তোমার স্পর্শ আছে, আজও হৃদয়ে বাঊলে সুর আসে! কবিতার তুমি ছড়িয়ে ছিটিয়ে জীবনে, বাঁচার ইচছা আমার জাগিয়ে রাখে!

ওলোটপালোট

ওলোটপালোট ..............কাব্য বহুকাল কবিতা লিখতে পারছি না, যা লিখছি তা শুধু পাগলের প্রলাপ অজস্র চেষ্টা! হয়তো আমি পাল্টে চলেছি নিজের ভিতর কোনো শেওলা মানব, যে শুধু সবুজ খুঁজছে! কিংবা কোনো সূর্যাস্ত সভ্যতার ইতিহাস লিখতে চাইছে, নিজের ভিতর ক্রমশ ফুরোনো আলোতে! রৌদ্রে পোড়া সময়ে পুড়ে চলেছে শ্রমিকের হাত, সময়ের ছোট মনে এখন গ্লোবালাইজেশন! ধর্মের আগুন এখন শুধু রাজনৈতিক রাবন, যে শুধু জটায়ুকে বোধ করে চলেছে! নারী হত্যা ,ভ্রন হত্যা ,বিপ্লবের মৃত্যু শুধু সাক্ষী রেখে গেছে সেই ধর্ষিত আদিবাসী সভ্যতার বুকে! আমার শব্দরা আজকাল শুয়ে আছে মৃত্যু বুকে নিয়ে চিতার আগুনে আজকাল আমার বারুদের গন্ধ! কিছু পাল্টাচ্ছে না কিছুর বদল নেই , শুধু সময়ের কামানে এখন ঘুম পাড়ানির গান, মানুষকে ঘুম পড়ানোর মন্ত্র! আমি চাই কোনো এক সকালের ঈশ্বরের কুঠারে, ফিরে আসুক সেই আদিম সভ্যতা! আমার গায়ের শেওলাগুলো উঠে গিয়ে শব্দ চাপা হোক, সময়ের ছাপাখানায় তখন সব ওলোটপালোট ,শুধু আলোর দিন! আর সকালে সূর্যের হাসিতে হেসে উঠুক সেই বেওয়ারিশ ছেলেটা যার মৃত্যু বুকে!!

ছায়া যুদ্ধ

ছায়া যুদ্ধ ...........কাব্য অন্তর্বর্তী কোনো ছায়া যুদ্ধ কেন জানি আজকাল যুদ্ধ শব্দটা খুব সহজে সময়ের পাতায়! ফোঁটা ফোঁটা রক্ত ,এদিকে ওদিকে ছড়ানো বডি, অসংখ্য হাড়গোড় বেড়োনো সমাজ! রিমেকের হিড়িক, আমাদের আর নতুন কিছু কি করার নেই ? কিছুটা এগিয়ে গেলে সুদিনদার চায়ের দোকান, জানতে ইচ্ছে করে চায়ের দোকানের মালিকের নাম  সুদিন কেন ? নরেন্দ্র হতেই পারে! একদল কুকুর  সময়ের রাস্তায় সহবাস করছে ,ঝগড়াও, আচ্ছা মেয়ে কুকুরগুলো এমন সস্তা কেন ? সকলের সাথেই চলে যাচ্ছে! হাজারো রাস্তা ,হাজারো তার নাম ,তার দিশা, প্রতিটা রাস্তার শেষে বিভ্রান্তিকর অদ্ভুত রঙিন মলাট! বিষয়বস্তুর নাম কি আশ্চর্য একটা  যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা চলছে অথচ সবাই আড়ালে! অন্তর্বর্তী কোনো ছায়া যুদ্ধ আমার শব্দরা ক্রমশ দুর্বোধ্য কোনো সময়ের কফিন! কারণ আমি জানি কলমই যুদ্ধের শেষ অস্ত্র , মৃত্যুর আগে মানুষের লড়াইগুলো যে টুঁটি চেপে ধরছে সময়! এই যুদ্ধের অস্থিরতায় বেড়ে যাচ্ছে, মানুষের ভাতের কান্না আর ভালোবাসার রোগ!!

পাতা ঝরা

পাতা ঝরা ........কাব্য অতিপরিচিত রোদে পুড়ে চলা সবুজের টান প্রিয়, এক ঝাঁক পাতা! খয়েরী আভা বাড়িয়ে তুলছে পিছুটান শহরের অলিগলি হাঁপিয়ে ওঠা সম্বল! নিজেকে ভোলাতে হেঁটে চলা অজস্র অযুতনিযুত অজুহাত পরিচিতরা বলে শুভকামনা! হাসিতে লেগে আছে নাগরিক অধিবেশন, একটা বিশাল শবযাত্রা, সৎকারের উদ্দেশ্যে এগিয়ে চলে অজান্তে! শহরের অলিগলি পেরিয়ে খোলা নর্দমা ,ময়লা খুপচি বাড়ি ,হারানো উঠোন ,লুকোনো হাসি, চাপা পড়েছে  ক্রমশ অগরু  আর ধূপকাঠিতে! কিছুক্ষনের মধ্যে অন্ধকার ঢেকে যায় চেনা শহরে, চেনা পথে অজস্র অচেনার মাঝে আমি নির্বাসিত! কানের গভীরে কে যেন হেসে বলে, একদম মনখারাপ না ,একদম একলা না! আমিও হেসে উঠি অজান্তে, দূর থেকে শুনতে পাই মৃত্যু পথযাত্রীদের শব্দ শুকনো পাতাঝরার! অতিপরিচিত রোদ,বোধহয় নিম্নচাপ, কিছুক্ষণের মধ্যে অন্ধকার আমার শহরের বুকে! আমার মতো কেউ দেখতে আমার দিকে এগিয়ে আসে মুখে তার অনেকদিনের লুকোনো বৃষ্টি! সবাই বলছে সময়ের রোগ আর আমি স্কচে'র সঙ্গে বরফের বদলে গিলতে থাকি আফসোস, এক আকাশ আফসোস প্রিয়!!
তোমার শব্দগুলো জুড়ে একটা কবিতা লিখতে চাই প্রিয়, আর তো কিছু পারি না আমি! অন্ধকার পর্দার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে অজস্র কালচিত্র, আবিষ্কার শুধুই আর্দ্রতা সূত্র! আর  তো কিছুই পারি না ভালো চাওয়া  ছিনিয়ে এনে চোখে তুলে ধরা, কাস্তে ,হাতুড়ি ,তারা শ্রমিকের মানদণ্ড! গোপন ইশারা, তোমার বুকের লুকোনো তিলে আশ্চর্য তারিখ, না ভালোবাসি বলতে পারি না প্রিয়, তোমার মস্তিস্ক নিউরনে স্নায়ু যুদ্ধের ছন্দপতন, আয়নায়  লাগানো ঠোঁট! বারংবার বম্বিং , আকাশ থেকে নেমে আসা অসংখ্য আশীর্বাদ, সময়ের নীতিতে ঝিমিয়ে  পড়া ভ্রূণ মৃত্যু, সময় এগোচ্ছে প্রিয়! তোমার অবয়ব জুড়ে শুধু এতটুকু ভালো চাওয়া, আর তো কিছু পারি না  আমি! সময়ের কালো পর্দার ওপারে সবটাই আগন্তুক, আবিষ্কার শুধু নতুন সময় প্রিয়!! ..............কাব্য

ম্যানিকুইন

ম্যানিকুইন .........কাব্য সত্যি বলতে কি ইসু আমরা কেউ ভালো নেই, দেওয়ালে আটকানো ক্যালেন্ডার, ঠিক যেমন হাওয়ায় উড়ছে ,ঠিক তেমনি! ঠিক যেন আকাশে শকুন আর মাটিতে ছোট্ট জীবন তার মধ্যে আমরা  ভালো থাকার কারণ খুঁজছি!  আগে পরে কিছু নেই বারংবার বিব্রত হয়ে ঈশ্বরের চোখের দিকে তাকাচ্ছি আমরা! আর মৃত ঈশ্বর একইরকম হেসে চলেছেন , সেই হাসিতে কোনো স্বাদ নেই ,কেমন একটা বিস্বাদ! এরই মাঝে আমরা এগিয়ে চলেছি, মৃত মিছিলে। আমাদের হাতে মোমবাতিতে লেখা শিশু ধর্ষণ ,কর্মহীনতা মানুষের হাজারো পাপ! শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে আমরা পিঠ চাপড়াচ্ছি নিজেদের, কিন্তু  হিসেবের খাতায় ক্রমশ আমরা ফুরিয়ে চলা একটা সভ্যতা! আমরা হাসছি, ঠিক যেন গ্লোবালাইজেশনের কোনো মলে, সাজানো ম্যানিকুইন! সত্যি বলছি ইসু, আজকাল লিখতে বসলে ,লেখার পাতায় রক্ত বৃষ্টি হয়, মানুষের সভ্যতার! আমরা কি তবে নিজেদের ভিতর ক্রমশ কুন্ডলী পাকাচ্ছি, হয়ে উঠছি  সব বিষাক্ত অজগর!!

অবাক পৃথিবী

অবাক পৃথিবী .............কাব্য লুকোনো স্বপ্নগুলো তাড়া করে আমি তোমার  গভীর  উঠোনে গিয়ে উঠি প্রিয়! তোমার  আঁচল টেনে ধরে নিজেকে ঢাকতে চেষ্টা করি অজস্র চোরাবালি আমার চারিপাশে! অবাক চোখে পৃথিবী দেখি চিনতে পারি না সময় ,চেনবার চেষ্টা করি নিজেকে তোমার আয়নায় প্রিয়! বারংবার নিজের কবিতায় তুমি কখনো হয়তো নবারুণের ধারালো সূর্য আমি ছুঁতে চাই বামনের মতো! আবার নিজের  আয়নায় তাকিয়ে দেখি নিতান্ত সাধারণ এক পুড়ে চলা মানুষ  বাস্তবতায়! দগ্ধ আধ পোড়া সিগারেটের আগায়  তামাটে পৃথিবী, স্বপ্ন ফেরি করে আমি সময় কিনি, কিনি কষ্ট ,গলার কাছে আটকে থাকে না বলাগুলো!  হঠাৎ কখন দক্ষিণের জানলা দিয়ে, একফালি মিষ্টি হাওয়া কানে কানে বলে, কই রে ,কখন থেকে খুঁজছি তোকে ,কেমন আছিস;  আমি ফেটে পড়ি হাসিতে জীবনের কথায় , সবটাই সামাজিক! লুকোনো স্বপ্নগুলো তাড়া করে আমি তোমার উঠোনে গিয়ে উঠি প্রিয় প্রতিদিন! স্বর্গের দুয়ারে দাঁড়িয়ে তোমার অপেক্ষায়, অবাক চোখে সাক্ষী হয়ে থাকি পৃথিবীর মিথ্যে বাঁচায়! আর তারপর কখন যেন রাত্রি হয় প্রিয়, আমাকেও ফিরে যেতে হয় প্রিয়,তোমাকে ছেড়ে সাজানো রাস্তায়!!

মনের আয়না

মনের আয়না ............কাব্য আয়নার সামনে তুমি থেকো না কি দেখবে ওখানে ? তোমার রূপ! সে তো চিরদিনের নয় মরছে পড়বে, কুঁচকে যাবে , বদলে যাবে সময়ের সাথে! বারে বারে বলি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে থেকো না কোনও লাভ নেই! যদি দেখতে হয় দেখো হৃদয় জানলার বাইরে! খোঁজো নিজেকে সেখানে, খোঁজো তোমার অন্তরের রূপ! যদি দাঁড়াতেই হয়, দাঁড়াও নিঝঞ্ঝাট সময়ের বাইরে! মাপবে কতোটা পবিত্র তুমি ওটাই তো তোমার আসল রূপ! বারে বারে বলি মনের  জানলা বন্ধ রেখো না! তাহলে হারিয়ে যাবে তোমাকে খুঁজবে না কেউ , আয়নার সামনে তুমি থেকো না!

পাখির স্বপ্ন চোখে

পাখির স্বপ্ন চোখে ...................কাব্য আমি কাব্য সেই সাধারণ ছেলেটা, যারা আমাকে চেনেন না , তাদের জন্য বলা আমি সেই ছেলে, যার স্বপ্ন ছিল চোখে পাখি হওয়ার! ঊড়ে বেড়ানোর গাছে গাছে , হৃদয়ের পাতাগুলো ছিল সবুজ আর মনের জানলায় ছিল সাজানো স্বপ্ন! আমি সেই ছেলেটা যাকে বাবা বলতেন, তুই একদিন গায়ক হবি দেখিস! মা বলতেন আদিখ্যেতা ,বয়স বাড়ছে হূশ নেই ছেলেটার!! আমি সেই আদুরে ছেলে যার বয়স বাড়ে, অন্য ছেলেদের মতও আমারো বেড়ে ওঠা চির চেনা খেলার মাঠে! আজ আমি শহরে, আপনারা জানেন  প্রিয়,আমি আজ আপনাদের শহরে! একটু মোটা হয়েছি, দু- একটা চুলো বোধ হয় পাকা! এই তো সেদিন গান গায়লাম মেসেঞ্জার নামক এক গ্রুপ কলে, বাহ্ বাহ্ পেলাম বেশ! সবাই বোল্লো বেশ গায় ছেলেটা, আমি কিন্তু খুশী নয় ,কারণ একটা আছে প্রিয়! আপনারা জানেন বোধ হয়, আমি কাব্য সেই সাধারণ ছেলেটা যার পাখী হওয়ার স্বপ্ন ছিল, তা আর এ সভ্য আলোকে হলোনা প্রিয়!!

জীবন্ত কৌতুক

জীবন্ত কৌতুক ...............কাব্য জীবন্ত যাতনার একটা গল্প আছে, যখন ঢুকে যায় গরম লোহা অনেক ভিতরে! কিংবা গায়ে ঝরে পড়তে থাকে লালচে সীসে, তখন পুড়ে যায় অতি প্রিয় জীবন! নীল আভায় রাঙানো প্রাগৈতিহাসিক সমুদ্রে যদি মেশে জ্বলন্ত লাভা মেশে কতটুকু ,পোড়ে জীবন তার থেকে বেশি! জীবাশ্মের গায়ে লেগে থাকা ডিএনএ জানান দেয়, আজকের বিশেষ খবর একটা জীবন ফুরিয়ে যায় বা বেঁচে যায়, কিন্তু আসল কথা কার কি এসে যায়! যা পুড়ছে তাকে পুড়তে দেও যে মরছে তাকে মরতে দেও! জীবন বাঁচবে না , না বাঁচুক প্রতিবাদী মিছিলের সামনে দাঁড়িয়ে! বোবা সভ্যতা জ্বলে মরুক মাথা ঠুকুক আমাদের রক্তে আবার থুথু! শান্তি দেও ,শান্তি দেও ,শান্তি দেও ........... জীবন্ত যাতনার মাঝের কথাটুকু বলা হলো, শেষ হলো না অভিশপ্ত জ্বলন্ত পুড়তে থাকা! নটে গাছ মুড়তে মুড়তে পুড়ে গেলো, হলো না এ জীবনে বেঁচে থাকা!

কি অদ্ভুত না

কি অদ্ভুত না ...........কাব্য কাগজের উপর লেখা আর হৃদয়ের উপর কয়েকটা শুয়োপোকা হেঁটে চলা হৃদয়ের! কুট কুট ছারপোকার কামড় মাথার ভিতর, কিছুক্ষণের স্তব্ধতা আর স্মৃতিচারনা, কি অদ্ভুত না! আসলে স্মৃতিগুলো চুলকানি সব, কিংবা হৃদয়ের উপর দগদগে ক্ষত! কিছুতেই শুকোতেই চাই না মানতেই চাই না , ওই না গুলো সব! বোঝে না কেন জানি না, সব তো ইচ্ছে করলে পাওয়া যায় না, পাওয়া যায় না নিজেকে হারানোর মানে! কাগজ কুচিয়ে ,কুচিয়ে লিখতে থাকা টুকরো টুকরো স্মৃতির আঙ্গিনায় সময়! আর সময়ের পথে হাঁটতে থাকা এক অলিক যাত্রীর কল্পনা! আসলে আমরা সবাই বোধ হয় কষ্টকে ভালোবাসি, তাই রক্তাক্ত কষ্ট ভোলা যায় না! আর এই ছারপোকার যাতনায় তিড়িং বিড়িং, মন উড়ে চলে যেন জল ফড়িং! সব বুঝি তবু কিছুই বুঝি না, আর এই বোঝার জন্য ছারপোকার কামড়; কি অদ্ভুত না!

হায় প্রেম

হায় প্রেম .........কাব্য প্রেম,প্রেম ,প্রেম আঠালো প্রেম ,রক্তাক্ত প্রেম ,ক্লেদাক্ত প্রেম ,স্মৃতির প্রেম! কি আছে বলুন তো ? ফুটপাথে অগ্নিশিখা মনুষত্বের বলি! সকালের সূর্যে সৌর্য্য ঝরে, ঘামের সাথে কামের কি কাজ কি করি বলুন তো? প্রেম,প্রেম ,প্রেম এই প্রেম শব্দের মানে খোঁজে ডারউইনের বাদর! এই প্রেম শব্দ খুবলে খায় সভ্য মানুষ; শরীর আর মিডিয়ার সাথে কেমন আঠা ভাব! কিছুটা প্রেম বোধহয় উপছে পরে চোলিকে নিচে, কিছুটা উপছে পরে অভুক্ত চাঁদের গায়ে, আঁকিবুকি টানে লোভ! বোধহয় অভিধানে একটা মানে শরীরের গভীরে অন্ধকার পায়ে! প্রেম,প্রেম ,প্রেম কফিকাপে উপচে পরে কিংবা ভাঙ্গা গঙ্গার পারে হেলান দেওয়া শরীরে উপচে পরে! সময়ের কথা লেখা হয় নোংরামির গায়ে, হায় প্রেম ফুরিয়ে যায় ,, পা হরকায়! হামাগুড়ি দিয়ে লজ্জায় মুখ লোকায়, কি জানি সবার কথায় কথায় প্রেম প্রেম পায়!

নতুন কিছু না

নতুন কিছু না .............কাব্য হাফ শার্ট লিটল ম্যাগের প্রথম পাতা, প্রেম সে তো মধুর ,কভু কাছে কভু শুধু আজব তান্ডব! অ আ ক খ ছেড়ে খোকা দল বানিয়েছে, ফেসবুক না ,উজবুক না! অনিদ্রায় পেট গরম হয়েছে মাথার ভিতর হিংস্র হাতছানি সময়ের, অদ্ভুত পাবলিক! মায়ের কাছে মাসির গল্প কোনো নতুন কিছু না! এবার খসবে ,খসে পড়বে জড়ানো অঙ্গপ্রতঙ্গে ক্ষুদ্র ভূমিকা, কয়েকটা আলিঙ্গনের পরেই মিছিল! মিছিলের সামনে খোকা জবাব চাই ,জবাব দেও বাপরে কি অদ্ভুত না! খালি হবে না কোনো কার্তুজের বারুদ বৃষ্টি হবে না অসময়ের মিছিলে! বড্ড ফালতু যে এ দল বাঁচ আর বাঁচতে দেও ,পুরনো প্রবাদ, মারো আর বেঁচে থাকো! হাফ শার্ট লিটল ম্যাগের শেষ পাতা, খোকা গেছে মাছ ধরতে গাঁজা আর মদে ডুবে, খুব সাধারণ যে!

প্রেমের স্পর্শে

প্রেমের স্পর্শে ..... .......কাব্য যারা  প্রেমে পড়েছেন ,তাদের বলা, তোমাদের নীল রঙের স্বপ্নের থলির ইচ্ছাগুলোর  জন্ম মৃত্যু না চাইলে এমন করবেন না! যদি অন্তরের সম্পদের মানহানি না চান, তবে প্রেম স্পর্শ করবেন না! শোনা কথা তবু বলি প্রেমের রূপে মুগ্ধ হবেন স্বাবাভিক, কিন্তু দয়া করে হৃদয়ে গ্রহণ করবেন না! সেদিন অমুক দেশের কোনো নাগরিক একি ভুলে মৃত্যু দন্ড নিলেন! সবাই দেখলো ,বুঝলো ,ভাবলো আর ভুলে গেল! এমন হয় কারণ প্রেম স্বপ্নময়, এমন হয়ে থাকে কারণ প্রেম ছলনাময়! ভাবছেন বোধহয় আমি পাগল, হা হা সত্যি তো আমি পাগল, কারণ প্রেম করলে পাগল হওয়া স্বাবাভিক!!